My Biography
বাংলাদেশের গান এবং নাটকের ইন্ডাস্ট্রি এখন অনেক চাঙ্গা। বর্তমানে সমসাময়িক নির্মাতা এবং কলাকুশলীরা তাদের সৃজনশীল মেধার মনন ঘটিয়ে চলেছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু বাংলাদেশের এই বাণিজ্যিক গানের পথচলা শুরু হয়েছিল যার হাত ধরে তিনি আর কেউ নন, তিনি M A shoeb.
১৯৮২ সালে প্রকাশিত তার প্রথম বাণিজ্যিক গানের অ্যালবাম *আজ থেকে বারটি বছর * তুমুল ঝড় তুলেছিল এদেশের সংগীতঙ্গনে। যা ছিল ব্লকবাস্টার হিট। প্রতিনিয়তই তার এই গানগুলি নতুন সংগীত নির্মাতারা ফলো করেন।
আজ অবশ্য এই মানুষটির গান এবং গানের ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনা নয় আলোচনা হবে তার পরবর্তী প্রজন্ম নিয়ে,তারই সুযোগ্য সন্তান সাইফুল্লাহ সোওেব কে নিয়ে। জিনিও হাঠছেন বাবার পথ ধরেই। কথায় আছে না বাপকা বেটা সিপাহী কা ঘোড়া কুছ নেহি তো থোরা থোরা।
ক্যারিয়ারের পিক টাইমে থাকার সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান দেশবরেণ্য শিল্পী MA Shoeb. তার ছেলে শিল্পী Saif shoeb এর জন্ম হয় ১৯৮৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। জন্মসূত্রে তিনি আমেরিকান হলেও তার পৈতৃক নিবাস দাদাবাড়ি ছিল গৌরনদি বরিশাল। তিনি অ্যারিজনা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক পাস করেন।
বাবা শিল্পী হওয়া সত্বেও বাবা কখনো তাকে গানের প্রতি ঝুকতে দেননি কিংবা প্রেশার দেননি।তবে তিনি বাবার স্টারডম দেখেছেন। কথায় আছে না রক্ত কখনো বিপদগামী হয় না। তিনি আপন মনে গানের প্রতি এক গভীর টান অনুভব করেন ছোটবেলা থেকেই তিনি বিভিন্ন মানুষের গান গাইতেন গুনগুন করে। কিন্তু মজার বিষয় হলো তার বাবাকে তিনি কখনো বুঝতে দেননি। তার বাবার সাথে তার খুবই বন্ধুত্বসুলভ সম্পর্ক থাকলেও এই বিষয়টি থেকে নিজেকে লুকিয়ে রাখতেন।
ছোটবেলা থেকেই তিনি বিভিন্ন বড় বড় শিল্পীদের সান্নিধ্য পেয়েছেন বাবার মাধ্যমে। আমাদের দেশবরেণ্য শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন এবং এন্ড্রু কিশোর যখন আমেরিকাতে বিভিন্ন প্রোগ্রামে যেতেন আমেরিকাতে অবস্থানরত শিল্পী এম এ সোওেব র সাথে দেখা করতেন তার বাসায় যেতেন কিংবা আজ থেকে বারটি বছর খ্যাতো এই শিল্পী নিজে তার পরিবারসহ তাদের লাইভ কনসার্ট দেখতে যেতেন।
সেই সুবাদে সাইফ এই দেশ বরণ্য শিল্পীদের সামনে থেকে দেখেছেন কাছ থেকে দেখেছেন। নেওয়ার চেষ্টা করেছেন তাদের ব্যক্তিত্বের সুগন্ধ। হঠাৎ একদিন তার মা তার বাবার সামনে বলে বসেন তুমি কি জানো ছেলে ইদানিং গুনগুন করে গান গাইতে শিখেছে এবং বেশ ভাল গায়। তো খুবই কৌতূহলবশত তার বাবা তাকে জিজ্ঞাসা করেন মায়ের থেকে শুনলাম তুমি নাকি আজকাল বেশ গান গাইছো আমাকে একটু শোনাও না। তিনি খুব ভয়াভয়ে বাবাকে শোনালেন এবং তার বাবা খুব খুশি হলেন। তিনি তখন বুঝতে পারলেন ছেলে পুরোপুরি না হলেও কিছুটা হলেও তার ধারা পেয়েছে যেটা সময়ের সাথে সাথে উদীয়মান।
এভাবেই চলতে থাকলো, হঠাৎ একদিন ১৪ বছর বয়সে বাবার সাথে একটি লাইভ কনসার্টের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন যেখানে তার বাবা শিল্পী হিসাবে ইনভাইটেড ছিলেন। তার বাবা তার জীবনের সেরা কাজটি করে বসেন সেই মুহূর্তে নিজে গান গাওয়ার পরিবর্তে ক্যালিফোর্নিয়াতে ছেলেকে গান গাইতে বলেন। অদ্ভুত হলেও সত্য সেই প্রোগ্রামে সাইফ গান গেয়েছিলেন এবং পেয়েছিলেন দর্শকদের আঘাত ভালোবাসা।
আস্তে আস্তে গানের প্রতি তার অনুরাগ আরো পেয়ে বসে, তিনি বাবার সাথে আস্তে আস্তে গান গাওয়া শুরু করলেন। বিভিন্ন প্রোগ্রাম স্টেজ পারফরমেন্স এর সাথে চলতে থাকলো তার সময় গুলি।
জন্মসূত্রে তিনি বিদেশি হলেও বাংলাদেশ এবং বাংলা গানের প্রতি রয়েছে তার অদম্যশ্রদ্ধা এবং অফুরন্ত ভালোবাসা। সেই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তিনি সিদ্ধান্ত নেন তিনি বাংলায় গাওয়া নিজের গানের একটি অ্যালবাম বের করবেন।
যেইভাবে সেই কাজ, তার প্রথম মৌলিক গান ঝাল টক লাভ তিনি প্রকাশ করেন এই 2025 সালের ৩০ শে মার্চ। প্রথম গানটিতে তিনি পেয়ে যান অফুরন্ত মানুষের ভালোবাসা। কোন ধরনের প্রচারণা ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইউটিউবে প্রায় ৩ লক্ষ ৩০ হাজার মানুষ তার গানটি শুনে ফেলেছে।
তার গানের রোমান্টিক ছোঁয়ায় আবেশিত হয়েছে দেশের শত শত তরুন তরুণী। নিউজ জি এর প্রতিবেদককে তিনি জানান, তিনি তার বাকিটা জীবন গান নিয়ে থাকতে চান তার বাবার দেখানো পথে এগোতে চান। তাকে প্রশ্ন করা হয় আজ থেকে দশ বছর পর আপনি নিজেকে কোন পর্যায়ে দেখতে চান, তিনি সগর্ভে উত্তর দেন নিজেকে প্রস্তুত করছি সময় দিচ্ছি গানের পেছনে। ইনশাআল্লাহ আমার ভক্তরা যদি চায় আমি প্লেব্যাক এর নিয়মিত শিল্পী হয়ে উঠতে চাই।
তিনি এও বলেন বাবা তার গর্ব, তিনি বাবার ফেইস ভ্যালু কিংবা পরিচিতিকে ব্যবহার না করে নিজের যোগ্যতা এবং দর্শকদের ভালোবাসায় সিক্ত হতে চান। নিজেকে প্রমাণ করতে চান।
বাংলাদেশের গানের ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে তিনি খুবই পজেটিভ। তিনি বলেন বাংলাদেশের গানের ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে অনেক অনেক রকম কথা বলেছে ইতোমধ্যে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় এখনো ট্যালেন্টের মূল্য রয়েছে। তাই আমি আশাবাদী।
দর্শকদের জন্য তিনি পরিশেষে বলেছেন, আমাকে আপনারা আপনাদের অনেস্ট অপিনিয়ন দিয়ে সহায়তা করবেন। এই গান আমার ভালোবাসা, গানের জন্য শত শত বছর বাঁচতে চাই।